ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: দিনে সরবরাহ মাত্র ৪ ঘণ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
সেন্টমার্টিনে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট:  দিনে সরবরাহ মাত্র ৪ ঘণ্টা ফাইল ছবি
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পরও বিদ্যুৎ সংকটের অবসান হয়নি। দ্বীপবাসীর অভিযোগ, উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনেও তারা দিনে গড়ে মাত্র চার ঘণ্টা সরবরাহ পাচ্ছেন। এর মধ্যে আগামী নভেম্বর থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরও ১০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে দ্বীপের বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

দ্বীপবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৪২ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। নভেম্বর থেকে ইউনিটপ্রতি আরও ১০ টাকা বাড়ানো হলে বিদ্যুতের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। অথচ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশা নিয়ে ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেন্টমার্টিনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমিত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে শিক্ষার্থী, সাধারণ পরিবার ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সে অনুযায়ী বাড়ে না। বছরের অন্য সময়েও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বলে তাদের অভিযোগ।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঠিক হিসাব, মিটার রিডিং ও বিলের রসিদ পাওয়া নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বিকল্প জেনারেটর সেবা চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, “শুরু থেকেই বেসরকারি বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানটি দ্বীপবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুৎ দিলেও বছরের বাকি সময়ে ঠিকমতো সরবরাহ করে না। এর মধ্যে ইউনিটপ্রতি আরও ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দ্বীপবাসীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমরা চাই, দ্বীপে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হোক।”

ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, “এমন বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন নেই। বাসার মিটার খুলে নিয়ে যান, খুঁটিও নিয়ে যান। পাঁচ টাকা ইউনিট দিলেও আর নেব না। ব্লু-মেরিনের বিদ্যুৎ বয়কট করলাম। আমরা ন্যায্যমূল্যে বিদ্যুৎ চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি ইউনিটে এত টাকা দিয়েও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার দাম বাড়ানোর ঘোষণা তাদের হতাশ করেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আহমেদ হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিনের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটাই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় ফ্রিজে পণ্য রাখা, আইসক্রিম সংরক্ষণ ও খাবার সংরক্ষণসহ ব্যবসার নানা কাজে সমস্যা হচ্ছে। বেশি দাম দিয়ে কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দ্বীপবাসীর দাবি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যৌক্তিক মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে গৃহস্থালি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। স্থানীয়দের মতে, উচ্চমূল্য ও সীমিত সরবরাহের কারণে দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্লু-মেরিন এনার্জি লিমিটেডের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে এটির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ